শেরপুরে বন্যার পরিস্থিতি উন্নতি, তবে এখনও পানিবন্দি ৫০ হাজার মানুষ; খাদ্য ও সুপেয় পানির সংকট তীব্র
শেরপুরের বন্যাকবলিত পাঁচ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানি নামতে শুরু করলেও এখনো প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষের জন্য খাদ্য ও সুপেয় পানির সংকট ক্রমশ প্রকট হয়ে উঠছে।
আজ সোমবার সকাল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখা যায়, পানির প্রবল স্রোতে অনেকের ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্র ভেসে গেছে। এতে বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে কঠিন অবস্থায় পড়েছেন অনেক পরিবার। বালুরঘাট এলাকার বাসিন্দা মারিয়া খাতুন জানান, ‘গত দুইদিন ধরে স্বেচ্ছাসেবীদের দেওয়া শুকনো খাবার খেয়ে আছি। সরকারি কোনো সহযোগিতা এখনো পাইনি।’
ঝিনাইগাতির ষাটোর্ধ্ব তালেব মণ্ডল বলেন, ‘খাবার পানি নেই। রান্না করার মতোও কিছু নেই। সবকিছু বানের পানিতে ভেসে গেছে।’
শেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুকল্প দাস জানান, জেলার প্রায় এক লাখ ৭২ হাজার কৃষক বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। নষ্ট হয়েছে প্রায় আটচল্লিশ হাজার হেক্টর জমির ফসল। এর মধ্যে আমন ধান ও শীতকালীন আগাম সবজির ক্ষতি উল্লেখযোগ্য।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রণব কুমার কর্মকার জানান, কেবল ঝিনাইগাতী এবং নালিতাবাড়ী উপজেলাতেই ২ হাজার ৫৭টি মাছের ঘের ভেসে যাওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ প্রাথমিক হিসাবে ৩০ কোটি টাকারও বেশি।
বন্যার কারণে জেলার বেশিরভাগ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, নালিতাবাড়ী-শেরপুর সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশে বস্তা ফেলে কিছুটা যান চলাচলের উপযোগী করা হলেও ভারী যানবাহন এখনও চলাচল করতে পারছে না।
শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুসারে, জেলার ভোগাই এবং চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার কিছুটা নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান জানান, দুর্গতদের উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে এখন পর্যন্ত ১৪ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার এবং রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে আট হাজার মানুষের মাঝে।
অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে শেরপুরের পরিস্থিতি এখনও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়নি। পানি নেমে গেলেও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র তখনই স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সক্রিয়ভাবে কাজ করছে, তবে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সরকারি সাহায্য ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের দাবি জানাচ্ছেন।

