এপ্রিল ১৮, ২০২৬

বন্যা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রস্তাব বিবেচিত হতে পারে: ভারত


ভারত-বাংলাদেশ অভিন্ন নদী ও বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন প্রস্তাবনা উত্থাপন হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল। গতকাল শুক্রবার এক সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে এবং পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য ইতোমধ্যে স্বীকৃত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা চালু রয়েছে। তবে নতুন কোনো প্রস্তাব প্রচলিত ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে এবং জনগণের দুর্ভোগ কমাতে কার্যকর হলে তা বিবেচনায় আসতে পারে।

সম্প্রতি বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলের বন্যার জন্য অনেকেই ভারতকে দায়ী করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে ২২ আগস্ট ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করেন। সেই সাক্ষাতে ড. ইউনূস অভিন্ন নদীর পানি ব্যবস্থাপনা ও বন্যা মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগের প্রস্তাব দেন, যা সীমান্ত ব্যবস্থাপনার মতো একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে।

বন্যা ইচ্ছাকৃত ও মনুষ্যসৃষ্ট বলে কিছু প্রচার প্রসঙ্গে রণধীর জয়সোয়াল স্পষ্টভাবে জানান, ত্রিপুরা ও বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলে অপ্রত্যাশিত বন্যার কারণ ছিল প্রবল বৃষ্টি, কোনো ধরনের পরিকল্পিত পদক্ষেপ নয়। ভারত সবসময় বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রেখেছে এবং ভবিষ্যতেও বজায় রাখবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এছাড়া, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান ও কূটনৈতিক পাসপোর্ট সংক্রান্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে মুখপাত্র বলেন, নিরাপত্তার কারণে তিনি স্বল্প নোটিশে ভারতে এসেছেন। এ বিষয়ে কোনো ধরনের অনুমান ভিত্তিক মন্তব্য ভারত দেয় না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ফোনালাপে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ উত্থাপিত হওয়ার বিষয়েও বিতর্কের প্রেক্ষিতে মুখপাত্র জানান, দুই নেতার আলোচনায় বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়েছে, তবে যৌথ বিবৃতি নয় বলে সব বিষয় প্রকাশ করা হয়নি।

ভারতীয় প্রকল্পগুলো আপাতত স্থগিত থাকলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সেগুলো পুনরায় শুরু হবে বলে জানান জয়সোয়াল। ভারত সবসময় বাংলাদেশের কল্যাণে কাজ করেছে এবং প্রকল্পগুলো জনমুখী বলে তিনি উল্লেখ করেন।