এপ্রিল ১৮, ২০২৬

শেরপুরে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি, মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৭


উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টির ফলে শেরপুর জেলার বন্যা পরিস্থিতি ক্রমশই অবনতি ঘটছে। জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে, যার ফলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বর্তমানে শেরপুরের ২৮টি ইউনিয়নের দুই শতাধিক গ্রাম পানির নিচে এবং দেড় লাখেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

জেলার নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, শনিবার (৫ অক্টোবর) রাতে নকলায় বন্যার কারণে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে নালিতাবাড়ী উপজেলায় পাঁচজন এবং ঝিনাইগাতীতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এখন পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ জনে।

শনিবার সকাল থেকে সেনাবাহিনীর ৬০ জন সদস্য ৬টি স্পিডবোটের মাধ্যমে উদ্ধারকাজে যুক্ত হয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও বিজিবির সদস্যরাও উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। ইতোমধ্যে অনেক পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে বিশুদ্ধ পানি এবং শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

শেরপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রণব কুমার কর্মকারের মতে, শুধু ঝিনাইগাতী এবং নালিতাবাড়ী উপজেলায় বন্যার কারণে ২ হাজার ৫৭টি মাছের ঘের ভেসে গেছে। প্রাথমিক হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ কোটি টাকারও বেশি। এ ছাড়া কৃষি অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার অন্তত ৩০ হাজার হেক্টর আমন আবাদ এবং ১ হাজার হেক্টর সবজির আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৭০ হাজার কৃষক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

জেলা শিক্ষা অফিসার মো. রেজয়ান জানিয়েছেন, যেসব বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, সেগুলো বন্ধ থাকবে। তবে যেসব এলাকায় পানি নেই, সেসব বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস চলবে। বিদ্যালয় বন্ধের সংখ্যা বিকেলে জানানো হবে।

শেরপুরের জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান বলেন, “জেলার প্রধান নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে, এবং আমরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। দুর্গতদের উদ্ধার ও ত্রাণ সহায়তা পৌঁছাতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

বন্যার কারণে শেরপুরের সার্বিক পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। পানির স্তর আরও বাড়ার শঙ্কা থাকায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হতে পারে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।