এপ্রিল ১৮, ২০২৬

ডিমের কুসুম ক্ষতিকর নাকি উপকারী ?


বেশিরভাগ মানুষ ডিমের কুসুম খেতে এড়িয়ে যান, কারণ এর মধ্যে থাকা কোলেস্টেরল ও ফ্যাটের কারণে ওজন বৃদ্ধি বা হার্টের সমস্যার ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করা হয়। বিশেষ করে যারা ডায়েট করেন বা হার্টের সমস্যায় ভুগছেন, তারা ডিমের কুসুম বাদ দিয়ে শুধু সাদা অংশ খান। তবে সত্যিই কি ডিমের কুসুম শরীরের জন্য ক্ষতিকর?

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদনে পুষ্টিবিদরা জানিয়েছেন, ডিমের কুসুম আসলে বেশ পুষ্টিকর। ডিমের সাদা অংশে প্রচুর প্রোটিন ও ভিটামিন বি২ থাকলেও কুসুমে রয়েছে ভিটামিন এ, ই, ডি, কে, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, সেলেনিয়াম, ফোলেট, ভিটামিন বি১২, ও আয়রন। এই উপাদানগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং চোখ, চুল, নখ, হাড়, মস্তিষ্ক ও হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক।

একটি বড় আকারের ডিমে ৫৫ ক্যালোরি, ২.৫ গ্রাম প্রোটিন এবং ৪.৫ গ্রাম চর্বি থাকে। এতে থাকা লুটিন ও জিযান্থিন নামক ক্যারাটেনোয়েডস চোখকে ক্ষতিকর অতি বেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষা করে এবং গর্ভাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকি হ্রাসে সহায়তা করে।

হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য ডিমের কুসুম ক্ষতিকর বলে যারা মনে করেন, তারা ভরসা রাখতে পারেন হার্ভার্ড হেলথ এডুকেশনের গবেষণার ওপর। গবেষণায় দেখা গেছে, খাদ্যাভ্যাসে থাকা স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ট্রান্স ফ্যাট থেকেই ক্ষতিকর কোলেস্টেরল তৈরি হয়, যা হার্টের ক্ষতি করে। তবে ডিমে থাকা সামান্য স্যাচুরেটেড ফ্যাটের কোনো উল্লেখযোগ্য প্রভাব নেই। তাই নিয়মিত ডিমের কুসুম খাওয়া নিরাপদ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিমের কুসুমে থাকা পুষ্টি উপাদান শরীরের জন্য উপকারী এবং এটি হাড় মজবুত রাখাসহ রক্তে লোহিত কণিকার বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে। তাই কুসুম ফেলে না দিয়ে ডিম সম্পূর্ণভাবে খাওয়ার পরামর্শই দিচ্ছেন পুষ্টিবিদরা।