পলিথিন ও প্লাস্টিকের প্রভাব: মানুষের শরীরে জমা হচ্ছে বিষাক্ত কণা
বাজারের পলিথিন ব্যাগ, প্লাস্টিকের বোতল ও প্যাকেটের খাবার, এবং মোবাইল ফোন বা কম্পিউটারে থাকা প্লাস্টিকের পাতলা আচ্ছাদন—এগুলি সকলেই পরিবেশে বিষাক্ত পদার্থ ছড়ানোর মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে। গবেষকরা সম্প্রতি একটি গবেষণায় নিশ্চিত করেছেন, ২০১৬ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ৯২ জনের কোষ নিয়ে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, মানুষের কিডনি ও যকৃতের তুলনায় মস্তিষ্কে সাত থেকে ৩০ গুণ বেশি প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।
গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, আট বছর আগে মস্তিষ্কে যে পরিমাণ প্লাস্টিক কণা পাওয়া যেত, বর্তমানে তার দেড় গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের মে মাসে প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্ণবয়স্ক মানুষের মস্তিষ্কে গড়ে সাত গ্রাম প্লাস্টিক কণা পাওয়া যায়। এই প্লাস্টিক কণাগুলো সাধারণত পাঁচ মিলিমিটার থেকে এক ন্যানোমিটার আকারে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, ন্যানোপ্লাস্টিক কণাগুলো সবচেয়ে ক্ষতিকর, কারণ এটি কোষের ভেতরে প্রবেশ করতে সক্ষম। মানুষের শরীরে ৬০ শতাংশ ফ্যাট রয়েছে, যা প্লাস্টিক কণার সংরক্ষণের জন্য একটি আদর্শ পরিবেশ সৃষ্টি করে। প্লাস্টিকের এই কণাগুলো মস্তিষ্কে জমা হয়ে যাচ্ছে, যা অন্যান্য অঙ্গের তুলনায় অনেক বেশি।
পরিবেশবাদী সংগঠন ডিফেন্ডার হেল্থ জানিয়েছে, পলিথিন পরিবেশে ডাই অক্সাইড নিঃসরণ করে, যা ক্যানসারের কারণ হতে পারে। তাই মানুষের মস্তিষ্কে প্লাস্টিকের অস্তিত্ব কমানোর জন্য কিছু পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
এখনই শুরু করা যেতে পারে:
- বাজারে যাওয়ার সময় প্লাস্টিকের ব্যাগ ও বোতল এড়িয়ে চলা।
- কাঁচের পাত্রে খাবার সংরক্ষণ করা।
- রান্নার আগে এবং মাইক্রোওভেনে দেওয়ার আগে প্লাস্টিকের মোড়ক থেকে খাবার বের করা।
- কাপড়ের বা পচনশীল উপাদানের ব্যাগ ব্যবহার করা।
- বাড়িতে ও অফিসে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে আনা।
সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য এগিয়ে আসুন এবং প্লাস্টিকের ব্যবহারের পরিমাণ কমাতে সচেষ্ট হন। এই রকম আরো তথ্য পেতে গ্রীন নিউজের সঙ্গে থাকুন।

