নদী রক্ষায় সংবিধানে বিধান অন্তর্ভুক্তির আহ্বান
নদীর মতো প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার জন্য সংবিধানে বিশেষ বিধান অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, “উন্নয়নের নামে পরিবেশ ও গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে ফ্যাসিস্টরা। নদী হত্যা গণহত্যার শামিল, তাই নদী হত্যার বিচার হওয়া উচিত।”
রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআইবি) মিলনায়তনে ‘ফ্যাসিবাদের অধীনে নদী’ শীর্ষক প্রতিবেদনের প্রকাশনা ও সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টারের (আরডিআরসি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আজাজ।
ফরিদা আখতার অভিযোগ করেন যে ফ্যাসিবাদী সরকার নদীকে বিভিন্ন অনৈতিক কাজে ব্যবহার করেছে। “জোরপূর্বক গুম করা লোকদের লাশও নদীর পানিতে ভাসতে দেখা গেছে,” তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি তিনি অবৈধ জমি দখলের কারণে নদীর প্রাকৃতিক পানির প্রবাহ কমে যাওয়া এবং বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে নাহিদ ইসলাম বলেন, “ফ্যাসিবাদী উন্নয়ন নীতি ও রাজনীতির কারণে দেশের প্রকৃতি ও নদী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।” তিনি সরকারের প্রতি নদী, কৃষি ও পরিবেশ সংরক্ষণে জাতীয় নীতি প্রণয়নের আহ্বান জানান এবং দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
নাহিদ ইসলাম ঢাকার চারটি প্রধান নদী – বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু ও তুরাগের দূষণ ও নগরায়নের নেতিবাচক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে বলেন, “নদী রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থাপনা নীতি প্রণয়ন জরুরি।” তিনি নদী দখলকারীদের প্রতিহত করা ও তাদের বিচারের আওতায় আনার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
সভায় বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক ইফতেখার মাহমুদ, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কক্সবাজারের কর্মী এইচ এম নজরুল ইসলাম, টেকসই জ্বালানি কর্মী মানিক হোসেন, তিস্তা নদী রক্ষা কমিটির সভাপতি ফরিদুল ইসলাম ও পশুর নদীর পানি রক্ষা কমিটির সভাপতি নুর আলম শেখ।

