বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সন্ধান: বিরল ‘বড় পাতানাক বাদুড়’!
বান্দরবান: বাংলাদেশের পাহাড়ি এলাকা বান্দরবানে প্রথমবারের মতো ‘বড় পাতানাক বাদুড়’ (Grand Leaf-nosed Bat) আবিষ্কৃত হয়েছে। সম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের গবেষকরা এই আবিষ্কারটি নিশ্চিত করেছেন।
গত ৯ ডিসেম্বর, বান্দরবান থেকে রোয়াংছড়ির একটি মারমা গ্রামে পৌঁছে গবেষক দলটি স্থানীয় গাইডের সাহায্যে বাদুড়গুহায় প্রবেশ করে। গুহার অন্ধকারে সরু ও সংকীর্ণ পথ ধরে কিছু দূর এগোতেই তাঁরা বাদুড়ের উপস্থিতি টের পান। টর্চের আলোয় গুহার বিভিন্ন অংশে ঝুলে থাকা বাদুড়গুলোর বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করা হয়। বাদুড়গুলোর মধ্যে একটি বাদুড়কে অন্যদের থেকে আলাদা মনে হয়, যার গায়ের রং ও আচরণ অন্যান্য বাদুড়ের তুলনায় ভিন্ন ছিল। পরে নমুনাটি সংগ্রহ করে ডিএনএ বিশ্লেষণ করা হয়, যা এই বিরল প্রজাতির পরিচয় নিশ্চিত করে।
এটির ইংরেজি নাম ‘গ্র্যান্ড লিফনোজ ব্যাট’ বা বাংলায় ‘বড় পাতানাক বাদুড়’। গবেষণায় জানা গেছে, বাদুড়টির ঊর্ধ্ববাহুর দৈর্ঘ্য ৬৬ মিলিমিটার, মাথা থেকে পায়ু পর্যন্ত দৈর্ঘ্য ৭৫ মিলিমিটার এবং লেজ ৩৯ মিলিমিটার। এর মুখের দুই পাশে তিনটি করে লিফলেট থাকে, যা প্রজাতিটিকে অন্য বাদুড় থেকে আলাদা করে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাদুড় গবেষক অংসুই নু মারমা ও তাঁর দল আন্তর্জাতিক জিন ব্যাংক এনসিবিআইতে বাদুড়টির ডিএনএ তথ্য জমা দিয়েছেন, যা সম্প্রতি স্বীকৃত হয়েছে এবং একটি অ্যাকসেশন নম্বর প্রদান করা হয়েছে।
এই প্রজাতিটি এর আগে বাংলাদেশে কোথাও দেখা যায়নি। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সীমিত পরিসরে পাওয়া যাওয়ায় এটি একটি ‘ডেটা ডেফিশিয়েন্ট’ প্রজাতি হিসেবে আইইউসিএন-এর (IUCN) বৈশ্বিক লাল তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০২৪ সালে এই বাদুড়ের বৈশ্বিক বিস্তারে বাংলাদেশের নাম যুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশের প্রাণিবিজ্ঞানীরা নতুন এক সাফল্যের সূচনা করলেন।
গবেষণাপত্রটি সম্প্রতি জার্মানির বিজ্ঞান সাময়িকী “Mammalia” তে প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের প্রাণিবিজ্ঞানীদের এই আবিষ্কারটি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

