বনের জায়গায় হাছান মাহমুদের ভাই গড়ে তুলেছিলেন পুকুর, খামার, বাগান ও পর্যটনকেন্দ্র
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় বন বিভাগের ২০০ একর জমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলেছেন সদ্য বিদায়ী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদের ছোট ভাই এরশাদ মাহমুদ। বন বিভাগের খুরুশিয়া রেঞ্জের অধীনে থাকা এই জমিতে গরু ও গয়ালের খামার, রেস্তোরাঁ, পর্যটনকেন্দ্র, মাল্টা ও কাজুবাদামের বাগানসহ বেশ কিছু অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। এছাড়া, পুকুর খনন করে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষও শুরু করা হয়েছিল। সম্প্রতি বন বিভাগ অভিযান চালিয়ে এসব স্থাপনা উচ্ছেদ করে জমি পুনরুদ্ধার করেছে।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত চার দিনে পরিচালিত অভিযানে ১২টি পুকুরের পাড় কেটে পানি অপসারণ করা হয়েছে এবং গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে রেস্তোরাঁ, গরু-গয়ালের খামার, বাংলো বাড়িসহ অন্যান্য স্থাপনা। মাল্টা ও কাজুবাদামের বাগানও ধ্বংস করা হয়েছে। দখলকৃত জমির বাকি ১২ একর অংশে পুকুর ছাড়া অন্য কোনো স্থাপনা না থাকায় সেখানে নতুন করে অভিযান চালিয়ে পুকুরগুলোও ধ্বংস করা হবে বলে বন বিভাগ জানিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দখল করা খামারে ১২০টি গয়াল ও ৩০টি গরু ছিল। ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর এসব গরু-গয়াল সরিয়ে নেওয়া হয়। এর পরপরই স্থানীয় কিছু বাসিন্দা পুনরায় দখলের চেষ্টা করে, তারা ১০টি টিনের ঘর নির্মাণ করেছিল। তবে বন বিভাগের অভিযানে এই ঘরগুলোও উচ্ছেদ করা হয়।
বন বিভাগের খুরুশিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম বলেন, বেদখলকৃত জমি পুনরুদ্ধারের কাজ চলমান রয়েছে এবং যা এখনো উদ্ধার করা হয়নি, সেখানে উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে। উদ্ধারকৃত জমিতে বন পুনরায় সৃজন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ২০২৩ সালে খুরুশিয়া রেঞ্জের ২১২ একর জমি উদ্ধারের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি জানান।
এরশাদ মাহমুদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়, ফলে এ বিষয়ে তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া জানা সম্ভব হয়নি। উল্লেখ্য, এরশাদের বড় ভাই হাছান মাহমুদ পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী এবং পরবর্তীতে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

