এপ্রিল ১৮, ২০২৬

সেন্টমার্টিন ও পর্যটন নিয়ে যা বললেন পরিবেশ উপদেষ্টা


পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, সরকার সেন্টমার্টিন এবং পর্যটন শিল্পকে একসঙ্গে রক্ষা করতে চায়। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে, এ বিষয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির কোনো অবকাশ নেই।

সোমবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে ওয়ান হেলথ ডে’র অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। জানান, অন্তর্বর্তী সরকার সেন্টমার্টিন লিজ দিচ্ছে- এমন সব উদ্ভট কথাবার্তা বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানো হচ্ছে।

তিনি জানান, কিছু মহল সেন্টমার্টিন দ্বীপ লিজ দেওয়ার গুজব ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তবে সরকার দ্বীপটির প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে এবং পর্যটন শিল্পকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেন্টমার্টিনে নভেম্বরে দিনে গিয়ে দিনেই ফিরতে হবে, আর ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে সর্বোচ্চ ২ হাজার পর্যটক রাত্রিযাপন করতে পারবেন।

উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, শুধুমাত্র মানবাধিকার নয়, বন্যপ্রাণীর অধিকার নিয়েও সচেতন হওয়া জরুরি। পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীর প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে। তিনি আরও জানান, হাতি চলাচলের পথে বর্তমান পরিস্থিতি অ্যালার্মিং, যা দ্রুত সমাধানের প্রয়োজন।

কৃষি উৎপাদনের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশে পেস্টিসাইড ও হার্বিসাইডের অতিরিক্ত ব্যবহারে উৎপাদিত কৃষিপণ্য মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আমরা খাদ্য উৎপাদন বাড়ালেও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে পর্যাপ্ত মনোযোগ দিইনি। ওয়ান হেলথ অ্যাপ্রোচের মাধ্যমে মানুষ, প্রাণী ও কৃষি উৎপাদন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করলে মানব স্বাস্থ্য রক্ষা পাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব এম এ আকমল হোসেন আজাদ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মেডিকেল শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব ডা. মো. সারোয়ার বারী, প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ডা. মো. আবু জাফর, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বাংলাদেশ অফিসের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি ডা. রাজেশ নারওয়াল, এফএও’র প্রতিনিধি ঝিয়াওকুন শি, ইউএসএইডের মিশন পরিচালক রিড জে আইশলিম্যান, ওয়ান হেলথ বাংলাদেশের জাতীয় সমন্বয়ক প্রফেসর ডা. নীতীশ চন্দ্র দেবনাথ এবং ওয়ান হেলথ সেক্রেটারিয়েট সমন্বয় কমিটির চেয়ার প্রফেসর ডা. তাহমিনা শিরিন।