গবেষণা: বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে ঢাকার বায়ুদূষণ
সম্প্রতি জিএসসি অ্যাডভান্সড রিসার্চ অ্যান্ড রিভিউতে প্রকাশিত এক গবেষণায় ঢাকার বায়ুদূষণের উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য ও শহরের অর্থনীতির জন্য মারাত্মক হুমকি।
গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন আশফাকুর রহমানসহ ইয়ং’স অর্গানাইজেশন অব আরবান রিসার্চ (ইউওআর), ওয়েস্টার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটি এবং অন্যান্য গবেষকরা। গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকায় বস্তুকণার (পিএম২.৫) ঘনত্ব জাতীয় নিরাপত্তা নির্দেশিকার তুলনায় ক্রমাগত বেশি থাকে। বিশেষত শীতকালে এর মাত্রা প্রতি ঘন মিটার বাতাসে ১৬৫-১৭৫ মাইক্রোগ্রামে পৌঁছায়, যা অনুমোদিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি।
বর্ষাকালে বস্তুকণার ঘনত্ব কিছুটা কম হলেও, এটি প্রতি ঘন মিটার বাতাসে ৩০-৩৫ মাইক্রোগ্রামের মধ্যে থাকে, যা শ্বাসযন্ত্রের স্বাস্থ্য, বিশেষ করে দুর্বল জনগণের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ঢাকা শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধি (২১ মিলিয়নের বেশি) এবং দীর্ঘমেয়াদি ট্রাফিক জ্যাম শিল্প কারখানার ধোঁয়া আরও খারাপ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্প কারখানা বিভিন্ন ক্ষতিকারক রাসায়নিক যেমন কার্বন ডাই অক্সাইড (সিও২), নাইট্রোজেন অক্সাইড (এনওএক্স), সালফার অক্সাইড (এসওএক্স) এবং ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (সিএফসি) নির্গত করছে, যা স্থানীয় বায়ু দূষণ এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
আশফাকুর রহমান বলেন, ‘ঢাকার বায়ু মানের অবনতি মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এটি শুধুমাত্র পরিবেশগত সমস্যা নয়—এটি জনস্বাস্থ্য ও টেকসই অর্থনীতির বিষয়।’
গবেষকরা কঠোর নির্গমন মান, উন্নত নগর পরিকল্পনা এবং পরিচ্ছন্ন পরিবহন বিকল্পের প্রচারের উপর জোর দিয়েছেন। ঢাকার নগর কাঠামোর মধ্যে সবুজ স্থান এবং হাঁটার উপযোগী অঞ্চলগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হলে তা উপকারী হবে।জনসচেতনতা প্রচারাভিযানের উপর জোর দিয়ে বলা হয়েছে, বায়ু মানের বিধিমালা প্রয়োগ স্থায়ী নগরায়নে সহায়তা করতে পারে। বিশ্বব্যাংকের মতে, ২০১৯ সালে বায়ুদূষণের কারণে ক্ষতির পরিমাণ ছিল ১১.৫ বিলিয়ন ডলার থেকে ১৩ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশের জিডিপির ৩.৯% থেকে ৪.৪% এর সমান।
গবেষণায় চীনের জিয়াংসি নরমাল ইউনিভার্সিটির সহগবেষক ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘ঢাকায় বায়ু দূষণ মোকাবিলায় সরকার, বেসরকারি খাত ও নাগরিক সমাজসহ সব স্টেকহোল্ডারদের জড়িত হতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিচ্ছন্ন বায়ু নিশ্চিত করা আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব।’
গবেষণায় বিভিন্ন একাডেমিক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেছেন। অতীতে কার্বন নিঃসরণ কমানোর কিছু প্রচেষ্টা থাকলেও, ঢাকাবাসীর টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে আরও অনেক কিছু করা প্রয়োজন। কঠোর বায়ু মানের বিধিমালা বাস্তবায়ন ও দায়িত্বশীল নগরায়ণের প্রচার এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।
অন্য একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০০৫ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ঢাকায় বায়ুদূষণের কারণে ২৪ হাজার মানুষের অকাল মৃত্যু হয়েছে, যা ৪৬টি শহরের মধ্যে সর্বাধিক। সায়েন্স অ্যাডভান্সেস একটি পিয়ার-রিভিউড বৈজ্ঞানিক জার্নাল, যা ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

