এপ্রিল ১৮, ২০২৬

চট্টগ্রামের বিপ্লব উদ্যানকে পূর্বের সবুজায়নে ফিরিয়ে আনার দাবি


চট্টগ্রাম নগরের ২ নম্বর গেটে অবস্থিত বিপ্লব উদ্যানের সবুজায়ন ও নির্মাণাধীন স্থাপনাগুলোর উচ্ছেদের দাবি উঠেছে নগর পরিকল্পনাবিদ এবং পরিবেশকর্মীদের পক্ষ থেকে। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বিশিষ্ট নাগরিকরা একত্রে এই দাবির প্রতি জোর দেন। সভায় চসিকের স্থপতি আবদুল্লাহ-আল-ওমর বিপ্লব উদ্যানের আগের এবং বর্তমান অবস্থার উপর একটি সচিত্র প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ডা. ইমরান বিন ইউনুস, স্থপতি জেরিনা হোসেন, প্রকৌশলী সুভাষ বড়ুয়া, সাংবাদিক জাহিদুল করিম কচি এবং আরও অনেকে। সভায় বক্তারা বিপ্লব উদ্যানের বাণিজ্যিকীকরণের বিরোধিতা করে উদ্যানটির আগের সবুজ প্রকৃতি ফিরিয়ে আনার উপর জোর দেন। তারা চসিককে পরিকল্পনাহীন উন্নয়ন বন্ধ করার পরামর্শ দেন এবং নাগরিকদের অবকাশ যাপনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করার আহ্বান জানান।

ডা. ইমরান বিন ইউনুস বলেন, “চট্টগ্রাম নগরে প্রায় ৮০ লাখ মানুষের বসবাস। এই নগরীকে বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে হলে বিপ্লব উদ্যান নিয়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।” প্রকৌশলী সুভাষ বড়ুয়া বলেন, চট্টগ্রামে পরিকল্পনা প্রতিষ্ঠান না থাকায় শহরটি জঞ্জালে পরিণত হচ্ছে, যা বাসযোগ্যতা নষ্ট করছে।

স্থপতি জেরিনা হোসেন বলেন, “উদ্যানের বাণিজ্যিকীকরণ না করে ফুটপাত ও খোলা জায়গাগুলোকে জনগণের হাঁটার উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।” এছাড়া পরিবেশ কর্মী শফিক আনোয়ার বিপ্লব উদ্যানকে একটি আইকনিক স্থান হিসেবে সংরক্ষণের আহ্বান জানান।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি সালাউদ্দিন মো. রেজা বলেন, “বিপ্লব উদ্যান স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত। এটি রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।” অন্যান্য বিশিষ্টজনরাও উদ্যানের পরিবেশগত গুরুত্বের উপর জোর দিয়ে বলেন, উদ্যানটির সবুজায়ন না হলে নগরবাসীর জন্য এটি একটি বিশাল ক্ষতি হবে।

সভাপতির বক্তব্যে শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, সভায় পাওয়া মতামতগুলোকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে এবং পরবর্তীতে আরেকটি সভার মাধ্যমে এ বিষয়ে চূড়ান্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।